রামপালে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত
‘জেন্ডার স্টেরিওটাইপ দূরীকরণ ও সাইবার সচেতনতায় অঙ্গীকার’ বাগেরহাটের রামপালে তরুণদের মধ্যে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রামপাল সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৩৫ জন শিক্ষার্থী এবং বুধবার (১৪ অক্টোবর) গিলাতলা আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক ইয়ুথ এনগেজমেন্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের আয়োজন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রামপাল উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি সেশন’ অনুষ্ঠিত হয়।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেশনগুলোর আয়োজন করে ক্রাফট ইনস্টিটিউট (CRAFT Institute) ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।
১৫ অক্টোবরের সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্রাফট ইনস্টিটিউট ও যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো. সোহানুর রহমান।
সেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসাইন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রনিক হালদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রামপাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজালাল গাজী, রামপাল মডেল মসজিদের খতিব আবুল হান্নান, স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অজয় কুমার সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. খৈয়াম হোসেন খিজির, মো. মুনাওয়ার হোসেন রনি, আরিফ হাসান গজনবী, মো. সাগর আহম্মেদ, মো. আব্দুল্লাহ শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ মাসুম বিল্লাহ, মো. রাকিবুল ইসলাম সুমন, মো. নুরুজ্জামান শেখ, শেখ মেহেদী হাসান ও মোতাহার হোসেন মল্লিক।
সেশনে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ও বৈষম্য দূরীকরণ, সাইবার সচেতনতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপদ ব্যবহার, ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং মিডিয়া অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, তরুণদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যম এবং যুব সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁরা জেন্ডার স্টেরিওটাইপ প্রতিরোধ, সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল তথ্যচর্চা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সমন্বিত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
এর আগে দুই কলেজে অনুষ্ঠিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সেশনে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সেশনগুলোতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই, জেন্ডার সমতা এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং মিডিয়া ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণ ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা।
The full article is being collected. Available text is shown for now.