ত্বকের যত্নে করণীয় জেনে নিন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ও এটি শরীরকে বাইরের পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ধুলোবালি, সূর্যের আলো, দূষণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাস- সবকিছুরই ত্বকের ওপর কমবেশি প্রভাব থাকতে পারে। তাই সুন্দর ত্বকের পাশাপাশি ত্বককে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
ত্বকের যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পরিষ্কার রাখা। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর এবং ঘাম হলে ত্বক পরিষ্কার করা ভালো। তবে অতিরিক্ত সাবান কিংবা শক্তিশালী ক্লিনজার দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া উচিত নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া কিংবা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
ত্বক পরিষ্কার করার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রেও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হতে পারে, তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা কিংবা উপযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। শুষ্ক ত্বকে তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হতে পারে।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘসময় বাইরে থাকলে ছাতা, টুপি কিংবা অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘসময় রোদে থাকার ক্ষেত্রে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বকের অকাল বয়স্ক হওয়ার লক্ষণ এবং সূর্যজনিত ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে করা যায় না। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম, বাদাম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। ধূমপান এড়িয়ে চলা ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের জন্য ভালো।
ব্রণ কিংবা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা হলে বারবার মুখে হাত দেওয়া কিংবা ব্রণ চেপে ধরার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। এতে প্রদাহ এবং দাগ বাড়তে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী কিংবা স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করার আগে ত্বকে সেটি সহ্য হচ্ছে কি-না তা লক্ষ্য করা ভালো।
ত্বকের রং ফর্সা করার জন্য অজানা বা শক্তিশালী রাসায়নিকযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।
ত্বকে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি, অস্বাভাবিক দাগ, ক্ষত, রঙের পরিবর্তন, বারবার ব্রণ কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ত্বকের যত্নের প্রয়োজনও আলাদা হতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সূর্য থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও ত্বকের উপযোগী পরিচর্যার সমন্বয়েই সুস্থ এবং স্বাভাবিক ত্বক বজায় রাখা সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
এই লেখাটি ত্বকের যত্নে করণীয় জেনে নিন সর্ব প্রথম প্রকাশিত হয়েছে The Dhaka Times এ।
The full article is being collected. Available text is shown for now.