← globalread.info

dailyamardesh.com · · 0 views

Share this story

কালীগঞ্জে দুই রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় হাজারো মানুষ

Story illustration

টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪: ৫৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলবাড়ীর দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান ও সিগন্যাল ব্যবস্থা। এতে যেকোনো সময় ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফুলবাড়ি লেভেল ক্রসিংয়ে রেললাইন পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে যানবাহন, সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল। অরক্ষিত এ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তা-ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রেললাইন স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কোনো গেটম্যান নিয়োগ করা হয়নি। কোনো সুরক্ষাবেষ্টনী বা গেট না থাকায় প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই অরক্ষিত পথ পারাপার করছেন দিনরাত যানবাহন, পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে ফুলবাড়ী গ্রামের মধ্য দিয়ে তিনটি স্থানে রয়েছে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা। লেভেল ক্রসিং মাত্র একটিতে রয়েছে গেটম্যান, কিন্তু অপর দুটিতে নেই কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা। ট্রেনের হুইসেল বাজলে একটিতে গেট বন্ধ হয়। অপর দুটিতে সতর্কীকরণ সিগন্যাল গাছের লতাপাতায় ঢেকে গেছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে মানুষ অবাধে চলাচল করে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও চলাচল করে প্রতিনিয়ত। পথচারী ও যানবাহনচালকদের জীবন নির্ভর করছে শুধু তাদের নিজস্ব সচেতনতার ওপর। অপেক্ষারত ব্যক্তিরা ট্রেনের হুইসেলে বুঝতে পারেন ট্রেন আসছে। তাই নিজ দায়িত্বে ট্রেন যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। দুটিতে কোনো গেটম্যান বা সিগন্যাল ব্যবস্থা নেই। ট্রেন কখন আসে, বোঝার উপায় নেই। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে অনেক প্রাণহানি ঘটবে।

ফুলবাড়ী গ্রামের সবুজ হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। এখানে ট্রেনের গতিবেগ অনেক বেশি, কিন্তু কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। গেটম্যান না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।’

কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মধ্য দিয়ে ঝনঝনিয়া, মাশলিয়া, কাষ্টভাঙ্গা, বেলেঘাট, বারবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথ। বিশেষ করে এ রেললাইন দিয়ে ব্যালাট ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী, বারবাজার কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাষ্টভাঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত চলাচল করে। ফুলবাড়ি রেলগেট দুটি বারবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যস্ত রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে থাকে। আবার লোকাল, মালবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই রেললাইন। বছরের পর বছর দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করলেও ফুলবাড়ীর দুটি স্থানে ক্রসিংকে নিরাপদ করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে।

মুশফিকুর রহমান নামে এক পথচারী বলেন, ‘পাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও এই ট্রেনলাইন দিয়ে অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন।’

অধ্যক্ষ মাওলানা ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘ফুলবাড়ী গ্রামটি অনেক বড় এবং এ গ্রামের মধ্য দিয়ে অন্তত ছয় গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এ গ্রামের প্রবেশস্থলে একটি গেটম্যান রয়েছে, অপর দুটিতে কোনো গেটম্যান নেই। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, কৃষকদের বিভিন্ন ফসলি ক্ষেত ও মাঠে ফসল আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

আশপাশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার হাজারো শিক্ষার্থীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সড়কে গেটম্যান না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন এলাকাবাসী। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত এখানে স্থায়ী গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে এলাকাবাসী মনে করেন। অবশ্য রেলরাস্তার দুপাশে সতর্কীকরণ বোর্ড দেওয়া রয়েছে, কিন্তু বনজঙ্গলে তা ঢেকে যাওয়ার কারণে বোঝা যায় না।

এ বিষয়ে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শাহাজান আলী বলেন, ‘গেট না থাকায় এখানে কোনো গেটকিপার নেই। বিকল্প হিসেবে ক্রসিংয়ের দুপাশে সিগন্যাল বোর্ড দেওয়া রয়েছে। সবাইকে সতর্কভাবে চলতে হবে।’

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

Article image
Article image
Source: dailyamardesh.com ↗
Share this story

Ask globalread.info

AI news & website helper
What would you like to explore?

I can find stories, explain headlines, or help you use globalread.info.

AI can make mistakes. Check the linked sources. Questions are sent to OpenAI.