আমার ভাইয়ের ডান পায়ের গোড়ালিতে কোপ দেয়, তাতে তার পায়ের রগ কেটে যায়: জবানবন্দিতে সাক্ষী

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ে বিএনপির সদস্য মো. উবাইদুল হককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যরা। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উবাইদুলের কপালে, হাতে আঘাত করে। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে কোপ দেয় হামলাকারীরা, যাতে তাঁর পায়ের রগ কেটে যায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ বুধবার এমন জবানবন্দি দিয়েছেন সাক্ষী মোছা. রোকসানা আক্তার। গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষী রোকসানা। তাঁর ভাই উবাইদুল হক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন।
জবানবন্দিতে রোকসানা আক্তার বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে উবাইদুলসহ অসংখ্য দলীয় নেতা–কর্মী নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন বিকেলে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উবাইদুলের কপালে, হাতে আঘাত করে। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে কোপ দেয়, যাতে তাঁর পায়ের রগ কেটে যায়। পিঠের ডান পাশেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
এ সময় সাক্ষী অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। জবানবন্দিতে রোকসানা আক্তার বলেন, তাঁর ভাই অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। পরে লোকজন তাঁকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ভাই ১২ আগস্ট দিবাগত রাতে মারা যান।
রোকসানা আক্তার বলেন, পরে টেলিভিশনের সংবাদে দেখেছেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনে ১৪ দলের একটি সভা হয়। সে সভায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত হয় এবং ছাত্রদের দেখামাত্রই গুলি করে মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সভায় আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলামসহ আরও অনেকেই ছিলেন। তাঁর ভাইসহ অন্যদের মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনাসহ ওই সভায় যাঁরা ছিলেন তাঁরা দায়ী। তাঁর ভাইসহ শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার চান তিনি।
The full article is being collected. Available text is shown for now.
Source: Prothom Alo ↗